You are currently viewing দূর্গাপূজা প্যান্ডেলের ব্যাবসা
দূর্গাপূজা প্যান্ডেলের ব্যাবসা Credit :- pexels.com

দূর্গাপূজা প্যান্ডেলের ব্যাবসা

দুর্গাপূজা হলো বাঙালির জাতীয় উৎসব, কলকাতার দুর্গাপূজা হলো বিশ্বের অন্যতম বড় পথ উৎসব (Street festival) জাতীয় উৎসবের পাশাপাশি এটি প্রচুর মানুষকে কর্মসংস্থান প্রদান করে। সুতরাং, এই পুজাটি কলকাতায় একটি ক্ষুদ্রঅর্থনীতির (micro-economy) কার্যকলাপের কেন্দ্র হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। প্যান্ডেল (Pandals) তৈরি করা থেকে শুরু করে ডেকোরেটর (decorators), মূর্তি নির্মাতা (idol-makers) থেকে কারিগর (craftsmen), ইলেকট্রিশিয়ান (electricians) থেকে সুরক্ষা  (security persons), পুরোহিত (priests) থেকে ঢাকি (dhakis), এই পুজো হাজার হাজার লোকের উপার্জন বাড়াতে সাহায্য করে। এই কারণে প্রচুর মানুষ এই দুর্গাপূজার জন্য অপেক্ষা করে থাকে সারা বছর ধরে। 

   কলকাতার দুর্গাপূজার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো প্যান্ডেল (Pandal) তার সাথে সামঞ্জস্য রেখে প্রতিমা (Idol) এবং আলোকসজ্জা (Lighting), এর কোনো একটি ছাড়া বাঙালির দুর্গাপূজা অসম্পূর্ণ। এর আকর্ষণে যে কতো মানুষের ভিড় হয় এই চারটি দিন আমরা সকলেই তা জানি। প্যান্ডেলের জন্য প্রতিযোগিতাও হয়, কোন ক্লাব কতো ভালো এবং কতটা আকর্ষণীয় প্যান্ডেল তৈরী করেছে সেই নিয়ে। এই কারণে প্যান্ডেল নির্মাতাদের ব্যবসায়ও অনেক উন্নতি হয়েছে।  আমরা শুধু অসাধারন প্যান্ডেলগুলি দেখি কিন্তু এর নেপথ্যে কত বুদ্ধি, পরিশ্রম থাকে তার কথা আমরা কল্পনাও করতে পরি না l একটি প্যান্ডেল তৈরী করতে যে কত দিন ধরে তার পরিকল্পনা করতে হয় সেই বিষয় আমরা অনেকেই জানি না, এবং এটি যে একটি সফল ব্যাবসা হতে পারে আজ আমরা সেই বিষয়টি নিয়েই আলোচনা করবো। তাই আর দেরি না করে চলুন শুরু করা যাক

দুর্গাপূজার অনেক মাস আগে থাকতেই কেমন প্যান্ডেল হবে সেটি নিয়ে পরিকল্পনা শুরু হয়ে যায়, এবং প্যান্ডেল করার জন্য প্যান্ডেল নির্মাতাদের কাঁধে সেই দায়িত্ব ভার তুলে দেওয়া হয়। তারা প্যান্ডেলের অবস্থান (Position) দেখে এবং ক্লাব কর্তৃপক্ষ (Authorities) কি বা কোন বিষয় (Theme) নিয়ে কাজ করতে চায় সেটি জেনে তার ওপর কাজ শুরু করেন। একটি প্যান্ডেল তৈরির জন্য প্রচুর মানুষ প্রয়োজন যারা পুরো প্যান্ডেল দাঁড় করাতে সহায্য করে। এবং প্রয়োজনীও জিনিসের যোগান দেওয়ার জন্য কিছু লোকের প্রয়োজন হয়ে, এই সব না না রকমের কাজ দেখাশোনার জন্য প্যান্ডেল প্রস্তুতকারীদের (Manufacturer) যোগাযোগ করা হয়। তারা এই পুরো কাজটি করার জন্য কিছু পারিশ্রমিক নেয়। প্যান্ডেল প্রস্তুতকারক (Manufacturer), ডেকরেটর (Decorator), এবং সরবরাহকারী (Suppliers) এই দিনটি কাজ পরিপূরক, এই কাজ গুলির জন্য অনেক লোকের প্রয়োজন হয়, যারা সাহায্য করে পুরো প্যান্ডেলটি তৈরি করে। এই ব্যাবসাটি ইদানিং খুবই লাভজনক, এবং প্রচুর মানুষ জীবিকা অর্জনের জন্য এই কাজটি বেছে নিয়েছেন।

   নির্মাতাদের মধ্যে প্রতিযোগিতা থাকে যে কে কতো সুন্দর করে প্যান্ডেল নির্মাণ করতে পারবে, সেই হিসেবে সেই প্যান্ডেলটি সেরার শিরোনাম পাবে এবং ক্লাবের পাশাপাশি তাদেরও খ্যাতি ছড়িয়ে পড়বে, এবং অন্যান্য ক্লাবগুলি সেই নির্মাণকারীর প্রধানের সাথে ভবিষ্যতের কোনো প্যান্ডেল নির্মানের আগে অবশ্যই যোগাযোগ করবে।

এবার জেনে নিই সেই বিশেষ কিছু পূজো প্যান্ডেলের কথা যা আমরা আজও মনে রেখেছি;

চেতলা অগ্রণী ক্লাব করেছিলো উল্টো কলকাতা যেটি সবার কাছে নতুন একটি বিষয় ছিল, পদ্মাবাদের আদলে করেছিলো শ্রীভূমি স্পোটিং ক্লাব, দেশপ্রিয় পার্কের বিশাল মাঠে বিশ্বের সবচেয়ে বড় দুর্গা প্রতিমা তৈরি করা হয়, যেটি ছিলো 2015 সালের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ, 2020 সালে বড়িশা ক্লাব করেছিলো পরিযায়ী শ্রমিকদের নিয়ে যা সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলো, এই বছর অর্থাৎ 2021 সালে শ্রীভূমি স্পোটিং ক্লাব সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে বুর্জ খলিফাএর আদলে মন্ডপ নির্মাণ করে।

    এইসব সুন্দর মন্ডপ দেখার জন্য প্রচুর মানুষ ভিড় করে প্রতিমা এবং মন্ডপ দেখার জন্য এবং সঙ্গে অবশ্যই আছে আলোকসজ্জা। সব মিলিয়ে চারদিন ধরে দুর্গা পূজার আনন্দই অন্যরকম। এইসব কিছুর আকর্ষণে কতো প্রবাসী বাঙালি দেশে ফেরে, বা কাজের জন্য, পড়াশোনার জন্য যারা অন্য রাজ্যে থাকে তারা ছুটি নিয়ে কলকাতায় আসে, পরিবারের সাথে বন্ধুদের সাথে এই চারদিন মজা করে আনন্দ করে কাটানোর জন্য।

   এই ব্যাবসা করে প্রচুর মানুষ সারা বছর তাদের সংসার চালায়। প্রতিটি ব্যাবসার ক্ষেত্রেই ভালো এবং মন্দ দুটি দিক থেকে, এই ধরনের ব্যাবসার  ক্ষেত্রেও  আছে। তবে মণ্ডপ বানানো একটি শিল্প এটির জন্য যথেষ্ট পরিমাণে দক্ষতার প্রয়োজন হয়। খুব সূক্ষ কাজ থাকে যে গুলি সত্যি প্রসংশনীও হয়ে প্রতিটি মানুষের কাছে। কিছু ব্যাবসা থাকে যেগুলো করে মানুষ শুধু লাভ, খ্যাতি পেতে চায় না তারা কাজ বা ব্যবসাটি করে অন্য মানুষকে খুশি দেয় বা অন্যদের খুশি দেওয়ার জন্য সেই কাজগুলি তারা করে থাকে। এই ব্যাবসার জন্য অভিজ্ঞতা লাগে তাই জন্য অবশ্যই সময়ের প্রয়োজন হয় তার সাথে দক্ষতারও দরকার সব মিলিয়ে কিছু বছরের পরেই এই ব্যাবসার লাভ পাওয়া সম্ভব হয়ে। এখনকার দিনে এই ধরণের ব্যাবসার চাহিদা লক্ষ্য করা যায়।

    এবং সব শেষে মণ্ডপ নির্মাতাদের কাছে আমরা সবাই কৃতজ্ঞ যে  তাদের এত দিনের পরিশ্রমের ফলে দুর্গাপূজার চারদিন আমাদের কাছে আরো খুশির মজার হয়ে ওঠে। তার সাথে সকলকে জানাই শুভ শারদীয়ার প্রীতি শুভেচ্ছা।

 

Leave a Reply